মিয়ানমারে ভয়াবহ ভূমিকম্প: নিহত হাজার ছাড়াল, চলছে উদ্ধার অভিযান

মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে ভয়াবহ এক ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত হাজারের বেশি প্রাণহানি হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে উদ্ধারকর্মীরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন।
শুক্রবার দুপুরে সাগাইং শহরের উত্তর-পশ্চিমে ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার কিছুক্ষণ পরেই ৬.৭ মাত্রার আরও একটি পরাঘাত অনুভূত হয়। শক্তিশালী এই ভূমিকম্পের ফলে মিয়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়সহ বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়েছে। বহু ভবন ধসে পড়েছে, সেতু ভেঙে গেছে এবং রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সরকারি তথ্যমতে, মান্দালয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ পর্যন্ত সেখানে সাত শতাধিক নিহত এবং প্রায় ১,৭০০ জন আহত হয়েছেন। তবে দেশজুড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ায় প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ এখনও পুরোপুরি জানা যায়নি এবং মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
থাইল্যান্ডেও বিপর্যয়
ভূমিকম্পের প্রভাব সীমান্ত পেরিয়ে থাইল্যান্ডেও পৌঁছায়। ব্যাংককে একটি ৩০ তলা নির্মাণাধীন ভবন ধসে পড়ে, যেখানে ১০ জন নিহত হয়েছেন। এখনও প্রায় ১০০ জন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ব্যাংককের গভর্নর জানিয়েছেন, শহরে ২,০০০-এরও বেশি ক্ষতির রিপোর্ট পাওয়া গেছে, এবং ভবনগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১০০-এর বেশি প্রকৌশলী মোতায়েন করা হয়েছে।
মিয়ানমারে জরুরি অবস্থা ঘোষণা
ভূমিকম্পের কারণে মিয়ানমারের সামরিক সরকার ছয়টি অঞ্চলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। রাজধানী নেইপিদোতে হাসপাতালের ভেতরে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব না হওয়ায় খোলা আকাশের নিচে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
উদ্ধারকারী এক স্বেচ্ছাসেবক জানান, মান্দালয়ের একটি বহুতল ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে ৩০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শহরের এক-পঞ্চমাংশ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান
মিয়ানমারের সামরিক শাসক মিন অং হ্লাইং আন্তর্জাতিক সহায়তার জন্য বিরল এক আবেদন জানিয়েছেন। অতীতে সামরিক সরকার বিদেশি সহায়তা নিতে অস্বীকৃতি জানালেও, এবার পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, ফ্রান্স এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন সহায়তা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিহতদের প্রতি শোক প্রকাশ করেছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জরুরি চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের দ্রুত উদ্ধার করা না গেলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান