রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা: আশাবাদ ও কঠিন বাস্তবতা

মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ফক্স নিউজকে বলেছেন, "আমি মনে করি না যে পুতিন পুরো ইউরোপ দখল করতে চান। আমি তার বক্তব্যকে এই দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণ করি।" ছবি: এভান ভুচি / এপি
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের কর্মকর্তারা নতুন আলোচনায় বসেছেন। ওয়াশিংটন আশাবাদী যে, এই আলোচনায় বাস্তব অগ্রগতি হবে, তবে মস্কো সতর্ক করেছে যে সামনে কঠিন আলোচনা অপেক্ষা করছে।
সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের আলোচনার পর সোমবার মার্কিন ও রুশ কর্মকর্তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ২০ এপ্রিলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে চায়, তবে কিয়েভ ও মস্কোর অবস্থানের মধ্যে বিশাল ফারাক থাকায় সময়সীমা পেছাতে পারে।
মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শান্তি চায়, যদিও মস্কো এ নিয়ে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। আলোচনার মূল বিষয় ৩০ দিনের জন্য জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা বন্ধ রাখা এবং কৃষ্ণসাগরে নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা।
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রুস্তেম উমেরভ আলোচনাকে “গঠনমূলক” বলে অভিহিত করেছেন এবং জ্বালানি খাতের নিরাপত্তা আলোচনার প্রধান বিষয় ছিল বলে জানিয়েছেন।
ক্রেমলিনের প্রতিক্রিয়া
রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ আলোচনার জটিলতা তুলে ধরে বলেছেন, “আমরা কেবল এই পথচলার শুরুতে রয়েছি”। মস্কোর মূল আগ্রহ ২০২২ সালের কৃষ্ণসাগর শস্য রপ্তানি চুক্তি পুনরায় চালু করা, যা ২০২৩ সালে রাশিয়া বাতিল করেছিল।
নতুন হামলা ও যুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি
যদিও যুদ্ধবিরতির আলোচনা চলছে, তবুও উভয় পক্ষের হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইউক্রেন জানিয়েছে, রাশিয়া ১৪৭টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে ৯৭টি গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে। কিয়েভে পাঁচ বছরের এক শিশুসহ তিনজন নিহত হয়েছে, এবং দোনেৎস্ক অঞ্চলে চারজন মারা গেছে।
অন্যদিকে, রুশ বাহিনী দোনেৎস্কের শ্রীবনে গ্রাম দখল করেছে, আর ইউক্রেনীয় বাহিনী লুহানস্কের নাদিয়া গ্রাম পুনরুদ্ধার করেছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী ৫৯টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করেছে, যার ফলে রোস্তভ অঞ্চলে একজন নিহত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত উইটকফের বিতর্কিত মন্তব্য
উইটকফ ফক্স নিউজকে বলেছেন, “পুতিন পুরো ইউরোপ দখল করতে চান না”, যা ইউরোপীয় দেশগুলোর দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর সম্ভাবনাকে “অপ্রয়োজনীয়” ও “নাটকীয়” বলে অভিহিত করেছেন।
তিনি আরও দাবি করেছেন যে ইউক্রেন জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করতে সম্মত হয়েছে, যদিও দেশটির সংবিধান যুদ্ধকালীন সময়ে নির্বাচন নিষিদ্ধ করেছে।
ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধবিরতি আলোচনা এখনো অনিশ্চিত। রাশিয়া অধিকৃত চারটি অঞ্চল (লুহানস্ক, দোনেৎস্ক, জাপোরিঝিয়া, খেরসন) নিয়ে বিতর্ক এখনো জটিল রয়ে গেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই অঞ্চলগুলো কখনোই রাশিয়ার অংশ হিসেবে স্বীকৃতি পাবে না।
উইটকফ দাবি করেছেন, “এই অঞ্চলগুলোর বেশিরভাগ মানুষ রাশিয়ার অংশ হতে চায়”, যা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে উইটকফ বলেছেন, “বিশ্বের জন্য ভালো হবে যদি রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে কাজ করতে পারে”, যা পশ্চিমা দেশগুলোর রাশিয়া-বিরোধী অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বর্তমানে যুদ্ধবিরতি আলোচনা চলছে, তবে বাস্তবে এটি কতটা কার্যকর হবে, সেটি এখনও অনিশ্চিত।