ব্যাংককে ইউনূস-মোদি বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে জয়সওয়াল যা জানালেন

ছবি: বাংলা আউটলুক
আগামী মাসের শুরুতে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বসতে যাচ্ছে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের সাত দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ক জোট বিমসটেকের শীর্ষ সম্মেলন। এই সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের মধ্যে বৈঠকের জন্য দিল্লিকে প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা।
প্রধান উপদেষ্টার চীন সফরের পরপরই এই দুই নেতার বৈঠকের বিষয়টি রাজনীতিতে আলোচনায় আসে বেশ। গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দুই দেশের শীতল সম্পর্কের কিছুটা উন্নতি এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে হবে কিনা সেই প্রশ্নও আসে।
আজ শুক্রবার (২১ মার্চ) বিকালে ভারতের রাজধানীতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে সম্ভাব্য ওই বৈঠকের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হয়। উত্তরে তিনি যা বলেছেন তা ঢাকার জন্য হতাশাজনকই বলা যায়।
তিনি বলেন, যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের কথা আপনারা জানতে চাইছেন, সে ব্যাপারে এই মুহূর্তে আমার কাছে শেয়ার করার মতো কোনো আপডেট নেই।
এর আগে, গত বছরের সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকেও ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির মধ্যে বৈঠক আয়োজনের জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু ভারত তাতে সাড়া দেয়নি এবং সেই বৈঠকও হয়নি। দুই নেতার মধ্যে অবশ্য মাঝে টেলিফোনে সরাসরি কথাবার্তা হয়।
এদিকে, কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের দুই প্রধানের বৈঠকের সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস।
আজ শুক্রবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আগামী মাসে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিমসটেক সম্মেলনে দেখা হতে পারে। কিন্তু সম্মেলনের সাইডলাইনে তাদের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে যে বৈঠকের কথা বলা হচ্ছে, সেটি নাও হতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এ সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) বিষয়টি সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছেন।
আগামী ৩ থেকে ৪ এপ্রিল থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনে অনুষ্ঠিত হবে। এ সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন মোদি ও ড. ইউনূস। সম্মেলনের এক ফাঁকে মোদি ও ইউনূসের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক বৈঠকের জন্য বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন ভারতকে চিঠিও দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আঞ্চলিক কোনো সম্মেলনে একসঙ্গে মোদি ও ইউনূসের উপস্থিত থাকার ঘটনা এবারই প্রথম ঘটবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনজন ব্যক্তি হিন্দুস্তান টাইমসকে বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে তাতে শীর্ষ পর্যায়ে দুই নেতাদের মধ্যে বৈঠক হওয়ার পরিস্থিতি নেই। বিশেষ করে সম্পর্কের টানাপোড়েন ও বিরোধের প্রেক্ষাপটের কারণে বৈঠকের উপযুক্ত পরিবেশ এখনও তৈরি হয়নি।
একটি সূত্র হিন্দুস্তান টাইমসকে বলেছেন, সম্মেলনে যেহেতু বিশ্ব নেতারা একাধিকবার একে-অপরের সামনে আসবেন। তখন হয়ত (ড. ইউনূস-মোদির মধ্যে) কথাবার্তা হলেও হতে পারে। কিন্তু এর বেশি কিছু প্রত্যাশা করা হচ্ছে না।
অপর সূত্রটি বলেছেন, আনুষ্ঠানিক বৈঠক আয়োজন কঠিন মনে হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টার কাছ থেকে প্রতিদিনই ভারতের বিরুদ্ধে নতুন সমালোচনা আসছে। এসব বিষয় বৈঠক আয়োজনের ক্ষেত্রে সহায়ক নয়।
উল্লেখ্য, বঙ্গোপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থার (বিমসটেক) দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড।