যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ইয়েমেনে ৫৩ জন নিহত, হুথিদের পাল্টা হুমকি

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩ জনে দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে পাঁচজন শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছে হুথিদের স্বাস্থ্য বিভাগ। খবর বিবিসির।
হুথিরা দাবি করেছে, রোববার রাতে বন্দরনগরী হুদাইদাতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। তবে এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি যুক্তরাষ্ট্র।
জাতিসংঘের উদ্বেগ ও মার্কিন অবস্থান
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ইয়েমেনে সব ধরনের সামরিক কার্যক্রম বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে হুথিদের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা রয়েছে, যদিও বিদ্রোহী গোষ্ঠী এই দাবি নিশ্চিত করেনি।
মার্কিন হামলার কারণ ও প্রতিক্রিয়া
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, লোহিত সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহরে হুথিদের হামলার জবাব দিতেই বিমান হামলা চালানো হচ্ছে।
হুথি নেতা আব্দুল মালিক আল-হুথি পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "যতদিন মার্কিন বাহিনী ইয়েমেনে হামলা চালাবে, ততদিন আমরা লোহিত সাগরে তাদের জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করব।"
হুথি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আনিস আল আসবাহি জানিয়েছেন, নিহত ৫৩ জনের মধ্যে পাঁচ শিশু ও দুই নারী রয়েছেন, আহত হয়েছেন ৯৮ জন।
ক্ষয়ক্ষতি ও সাক্ষ্য
সানা শহরের বাসিন্দা আহমেদ বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, “আমি ১০ বছর ধরে সানায় বসবাস করছি, যুদ্ধের গোলাগুলির শব্দ শুনছি। কিন্তু বিধাতার দোহাই, এ ধরনের হামলার অভিজ্ঞতা আগে কখনো হয়নি।”
যুক্তরাষ্ট্রের কড়া বার্তা ও হুথিদের প্রতিক্রিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ওয়াল্টজ এবিসি নিউজকে বলেছেন, “শনিবারের হামলা ছিল একাধিক হুথি নেতাকে টার্গেট করে এবং তাদের সরিয়ে দেওয়ার জন্য।”
প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ বলেছেন, “হুথিদের হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের পাল্টা আক্রমণ চলবে।”
হুথি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা মার্কিন বিমানবাহী রণতরী "ইউএসএস হ্যারি এস. ট্রুম্যান" এবং অন্যান্য যুদ্ধজাহাজের ওপর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তাদের যুদ্ধবিমান ১১টি হুথি ড্রোন গুলি করে নামিয়েছে, যা ট্রুম্যানের কাছেও পৌঁছাতে পারেনি।
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “ইরানের অর্থায়নে হুথি বিদ্রোহীরা যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ও মিত্রদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। যদি তারা থামে না, তবে তাদের ওপর ‘নরকের আগুন’ নেমে আসবে, যা তারা আগে কখনও দেখেনি।”
হুথিরা বলছে, তারা গাজায় ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় লোহিত সাগরে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের জাহাজ লক্ষ্যবস্তু করছে এবং ফিলিস্তিনিদের পক্ষে অবস্থান নেবে।
২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে হুথিরা লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌকা দিয়ে হামলা চালিয়ে আসছে। তারা দুইটি জাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছে, তৃতীয়টি আটক করেছে এবং চারজন নাবিককে হত্যা করেছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, "যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েমেনে হস্তক্ষেপের কোনো অধিকার নেই।"
এক্স (সাবেক টুইটার)-এ এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “ইসরায়েলের গণহত্যা ও সন্ত্রাসবাদের প্রতি সমর্থন বন্ধ করুন। ইয়েমেনি জনগণকে হত্যা করা বন্ধ করুন।”
হুথিদের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলা ও তার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে, যা এই অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।