পাকিস্তানে 'আইএসআই'র সহযোগী ইসলামি পণ্ডিত গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত

প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৫, ১১:২৭ এএম

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন মুফতি শাহ মীর, যিনি পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর হয়ে কাজ করার অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে তিনি ভারতের সাবেক নৌসেনা কর্মকর্তা কুলভূষণ যাদবকে ইরান থেকে অপহরণে সহায়তা করেছিলেন। শুক্রবার রাতে বেলুচিস্তানের তুরবাত শহরে এ ঘটনা ঘটে।
হামলা ও হত্যাকাণ্ড
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মুফতি শাহ মীর এর আগেও দুটি প্রাণঘাতী হামলা থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন। তবে শুক্রবার রাতে, এশার নামাজের পর মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় মোটরসাইকেল আরোহী বন্দুকধারীরা তাকে লক্ষ করে গুলি চালায়।
পুলিশ জানিয়েছে, কাছ থেকে একাধিকবার গুলি করা হলে তিনি মারাত্মক আহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান।
আইএসআই’র ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন মীর
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুফতি শাহ মীর ছিলেন জামিয়াত উলেমা-ই-ইসলাম (JUI)-এর সদস্য এবং মূলত অস্ত্র ও মানব পাচারের কাজে লিপ্ত ছিলেন। তিনি আইএসআই-এর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি এবং সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণ শিবিরে নিয়মিত যেতেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ভারতে জঙ্গি অনুপ্রবেশে সহায়তা করতেন।
বেলুচিস্তানের খুজদার শহরে গত সপ্তাহে মীরের দলের আরও দুই সদস্যকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
বেলুচিস্তানের উত্তপ্ত পরিস্থিতি
বেলুচিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই সহিংসতা, অপহরণ এবং গুমের ঘটনার শিকার হয়ে আসছে। বিশেষত সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।
এ বছরের শুরুতে এই অঞ্চলে সংঘর্ষে ১৮ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং ২৩ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছিলেন।
কুলভূষণ যাদব মামলা
ভারতের সাবেক নৌসেনা কর্মকর্তা কুলভূষণ যাদব ইরানের চাবাহার বন্দরে ব্যবসা করতেন, তবে পাকিস্তান তাকে গোয়েন্দা তৎপরতার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে।
২০১৭ সালে পাকিস্তানের সামরিক আদালত তাকে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেয়। ভারত এই রায়কে প্রহসনের বিচার বলে অভিহিত করে এবং পাকিস্তানকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানায়।
আন্তর্জাতিক আদালতের রায় ও বর্তমান অবস্থা
২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক আদালত (ICJ) যাদবের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয় এবং পাকিস্তানকে তার বিচারের রায় পুনঃপর্যালোচনা করতে ও কনসুলার অ্যাক্সেস দিতে বলে।
২০১৬ সালে ইরান-পাকিস্তান সীমান্ত থেকে অপহরণের পর তাকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল।
২০২০ সালে, আইএসআই-এর সাবেক সহযোগী ও অপহরণ পরিকল্পনার মূল সংগঠক "জইশ আল-আদল" গোষ্ঠীর সদস্য মোল্লা ওমর ইরানি তুরবাতে গোপনে হত্যা করা হয়।
২০২১ সালে পাকিস্তান যাদবের আপিলের জন্য একটি আইন প্রণয়ন করে, তবে ভারত এই আইনকে আগের আইনের মতোই পক্ষপাতদুষ্ট বলে নাকচ করে এবং ন্যায়বিচারের পরিবেশ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করে।