স্পেসএক্সের স্টারশিপ রকেট আবার বিস্ফোরিত

স্পেসএক্সের স্টারশিপ রকেট আবারও পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের সময় বিস্ফোরিত হয়েছে। টেক্সাসের বোকা চিকায় স্টারবেস থেকে এটি উৎক্ষেপণ করা হয়, কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিস্ফোরিত হয়। এটি ছিল স্টারশিপের তৃতীয় পরীক্ষা, যেখানে আগের দুটি উৎক্ষেপণও ব্যর্থ হয়েছিল।
স্টারশিপ একটি রকেট, যা চাঁদে নভোচারী অবতরণ ও মঙ্গল অভিযানের জন্য তৈরি করা হয়েছে। স্পেসএক্স জানিয়েছে, ডাটা পর্যালোচনা করে মূল কারণ শনাক্ত করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের সমস্যা এড়ানো যায়।
স্টারশিপের ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে এটি পূর্ব দিকে ভারত মহাসাগরের দিকে গমন করছিল, যেখানে এটি নিয়ন্ত্রিতভাবে পুনঃপ্রবেশের কথা ছিল। বিস্ফোরণের ফলে মহাকাশের বিভিন্ন স্থানে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে, যা ফ্লোরিডা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে দৃশ্যমান হয়েছে।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী ব্রেট বোস্টউইক জানান, তিনি বাহামাসের কাছে একটি নৌকা থেকে রকেটটি দেখছিলেন। বিস্ফোরণের মুহূর্তে এটি একটি বিশাল আগুনের গোলায় পরিণত হয়। বোস্টউইকের সন্তানরাও এটি প্রত্যক্ষ করে এবং আগের ব্যর্থ উৎক্ষেপণের স্মৃতি মনে করে।
বিস্ফোরণের প্রভাব ও নিরাপত্তা সতর্কতা
মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অথরিটি (FAA) স্পেসএক্সকে একটি "মিসহ্যাপ ইনভেস্টিগেশন" পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে, যাতে এ ব্যর্থতার কারণ শনাক্ত করা যায়। এ ঘটনার পর ফ্লোরিডার চারটি প্রধান বিমানবন্দরে (মিয়ামি, ফোর্ট লডারডেল, পাম বিচ ও অরল্যান্ডো) ফ্লাইট বিলম্বিত হয়।
আগের জানুয়ারির পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণেও স্টারশিপ আট মিনিট পর বিস্ফোরিত হয়েছিল, যা বাহামাসের আকাশে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে দেয়। তবে, কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
ভবিষ্যতের সম্ভাবনা
ইলন মাস্ক এই ব্যর্থতা সম্পর্কে বলেছেন, এটি অক্সিজেন ও জ্বালানি লিকের কারণে ঘটতে পারে। যদিও স্পেসএক্স প্রতিটি ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিচ্ছে, তবে বারবার ব্যর্থ উৎক্ষেপণের ফলে স্টারশিপ প্রকল্প নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
স্পেসএক্স কি এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সফল হতে পারবে? নাকি স্টারশিপ প্রকল্প আরও সময়ের প্রয়োজন হবে?—এ প্রশ্ন এখন স্পেস ইন্ডাস্ট্রির আলোচনার কেন্দ্রে। সূত্র: স্কাই নিউজ