ইউক্রেন যুদ্ধ সমাধানে যুক্তরাজ্যের পরিকল্পনা

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ও দেশটিকে রাশিয়ার আগ্রাসন থেকে রক্ষার জন্য চার দফা পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। এই পরিকল্পনার আওতায় ইউক্রেনকে অবিরাম সামরিক সহায়তা প্রদান, রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি, ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা এবং শান্তিচুক্তির পর ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
স্টার্মার বলেন, "আমরা ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে আছি। ইউরোপ এখন একসঙ্গে কাজ করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার ভিত্তি খুঁজছে।"
এই ঘোষণার আগে ১৮টি দেশের নেতাদের অংশগ্রহণে লন্ডনে এক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনের মূল আলোচনা
ইউক্রেনে সামরিক সহায়তা চালিয়ে যাওয়া এবং রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি
শান্তিচুক্তিতে ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করা, যেন ভবিষ্যতে কোনো আগ্রাসন প্রতিহত করা যায়
ইউক্রেনের শান্তিচুক্তি রক্ষা করতে "ইচ্ছুক দেশগুলোর জোট" গঠন
স্টার্মার আরও জানান, যুক্তরাজ্য অতিরিক্ত ১.৬ বিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দ দিচ্ছে, যা ইউক্রেনের ৫,০০০ বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ক্রয়ে ব্যবহৃত হবে। এটি ২.২ বিলিয়ন পাউন্ডের ঋণের পাশাপাশি দেওয়া হচ্ছে, যা রাশিয়ার বাজেয়াপ্ত সম্পদ থেকে অর্জিত মুনাফার মাধ্যমে সামরিক সহায়তা হিসেবে প্রদান করা হবে।
ট্রাম্প-জেলেনস্কির উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়
এই সম্মেলনের মাত্র দুই দিন আগে হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় ঘটে। ট্রাম্প অভিযোগ করেন, জেলেনস্কি বিশ্বযুদ্ধের ঝুঁকি নিচ্ছেন এবং রাশিয়ার সঙ্গে শান্তিচুক্তি করতে আগ্রহী নন।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও যুক্তরাজ্য এক মাসের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছেন, যা আকাশ, সমুদ্র এবং জ্বালানি অবকাঠামোতে কার্যকর হবে।
"ইচ্ছুক দেশগুলোর জোট" গঠন ও ইউক্রেনের খনিজ চুক্তি
স্টার্মার বলেন, ইউরোপকে এই যুদ্ধে নেতৃত্ব দিতে হবে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ছাড়া চুক্তি কার্যকর করা কঠিন হবে।
এরপর জেলেনস্কি রাজা চার্লস III-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে খনিজসম্পদ চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। যদিও মার্কিন ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট বলেছেন, "এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে না, যদি না রাশিয়ার সঙ্গে শান্তিচুক্তি হয়।"
সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশ
ফ্রান্স, পোল্যান্ড, সুইডেন, তুরস্ক, নরওয়ে, চেক প্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, রোমানিয়া, ফিনল্যান্ড, ইতালি, স্পেন, কানাডা।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেন, "এখন ইউরোপকে পুনরায় সামরিকভাবে শক্তিশালী করা জরুরি।"
রাশিয়ার ওপর চাপ ও ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা
স্টার্মার বলেন, "আমরা অতীত থেকে শিক্ষা নিয়েছি, এমন দুর্বল চুক্তি করা যাবে না যা রাশিয়া সহজেই লঙ্ঘন করতে পারে। আমাদের শক্তিশালী অবস্থান গ্রহণ করতে হবে।"
মার্কিন প্রশাসন ইতোমধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনা শুরু করেছে, যেখানে ইউক্রেনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এ নিয়ে জেলেনস্কি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান।
বিশ্লেষকদের মতে, স্টার্মারের পরিকল্পনা ইউরোপকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে, তবে মার্কিন সমর্থন ছাড়া এটি সফল হবে কি না, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।