Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

সৌদি আরবে বৈঠক

ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ হলে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা খতিয়ে দেখবে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১১:২২ এএম

ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ হলে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা খতিয়ে দেখবে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠিত বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ হলে তারা “অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগের সুযোগ” নিয়ে একসঙ্গে কাজ করবেন। এই সিদ্ধান্তকে মস্কোর সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বৃহৎ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইউক্রেন ও ইউরোপ জুড়ে এ নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন এক শান্তি সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেন, যা ভ্লাদিমির পুতিনের পক্ষে যায়। বৈঠকে কোনো ইউক্রেনীয় বা ইউরোপীয় কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না।

ফ্লোরিডার মার-আ-লাগোতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প ইউক্রেনকে আমন্ত্রণ না জানানোর কারণে সৃষ্ট উদ্বেগকে তুচ্ছজ্ঞান করেন। বরং তিনি ইঙ্গিত দেন, যুদ্ধ শুরুর জন্য কিয়েভ নিজেই দায়ী।

ট্রাম্প বলেন, “আজ শুনলাম, ‘ওরা (ইউক্রেন) আমন্ত্রণ পায়নি’। ঠিক আছে, গত তিন বছর ধরেই তো ওখানে রয়েছে। তিন বছর আগেই যুদ্ধ শেষ করা উচিত ছিল—এমনকি শুরুই করা উচিত ছিল না। ওরা একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে পারত।”

এসময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার অর্থ কোথায় যাচ্ছে তার কোনো হিসাব না থাকায় বিরক্তি প্রকাশ করেন এবং ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রতি সমর্থন জানাতে আপত্তি করেন। তিনি আরও বলেন, “আমি মনে করি, এই যুদ্ধ শেষ করার ক্ষমতা আমার হাতে আছে।”

রিয়াদের দিরিয়াহ প্রাসাদে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার ব্যাপক আলোচনা শেষে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, ইউক্রেনে শান্তি প্রতিষ্ঠায় উচ্চপর্যায়ের একটি দল গঠন এবং “ইউক্রেন সংঘাতের সফল সমাপ্তি থেকে উদ্ভূত সুযোগগুলো” নিয়ে কাজ করতে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।

এটি বাইডেন প্রশাসনের মস্কোকে একঘরে করে রাখার নীতি থেকে নাটকীয়ভাবে সরে আসার ইংগিত। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ও প্রেসিডেন্ট পুতিনের প্রধান পররাষ্ট্র নীতির উপদেষ্টা ইউরি উশাকভের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন রুবিও, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্টজ এবং মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ।

রুবিও বলেন, ইউক্রেন সংঘাতের ইতি টানা সবার— ইউক্রেন, ইউরোপ ও রাশিয়ার— জন্য গ্রহণযোগ্য হতে হবে; এবং ওয়াশিংটনের ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে এই বিষয়ে পরামর্শ করা হয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাইয়া কাল্লাস টুইটারে রুবিওকে উদ্দেশ করে লেখেন, “রাশিয়া আমাদের বিভক্ত করার চেষ্টা করবে। তাদের ফাঁদে পা দেবেন না। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একত্রে কাজ করে আমরা ইউক্রেনের স্বার্থে একটি ন্যায়সংগত ও স্থায়ী শান্তি অর্জন করতে পারি।”

কিন্তু রিয়াদে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা যুক্তরাষ্ট্রের দ্রুত পদক্ষেপের বিষয়টি তুলে ধরে, যা ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে এবং যা কিয়েভ ও সারা ইউরোপে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ওই অঞ্চলের কর্মকর্তারা সোমবার ইউক্রেনে শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠানোর সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন।

পুরনো ব্যবস্থাপনা’কে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প ও ভ্যান্স— ইউরোপের প্রতিক্রিয়া কী হওয়া উচিত?

লাভরভ বলেন, “আজ আমরা আমাদের সহকর্মীদের বোঝাতে চেয়েছি যে, প্রেসিডেন্ট পুতিন বারবার বলে এসেছেন— ন্যাটোর বিস্তার, নর্থ আটলান্টিক অ্যালায়েন্সের অধীনে ইউক্রেনকে নিয়ে নেওয়া, রাশিয়ার স্বার্থের প্রতি সরাসরি হুমকি, আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি।”

তিনি আরও বলেন, রাশিয়া কখনো ইউক্রেনের বেসামরিক জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করেনি।

বৈঠকের পর উশাকভ জানান, আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। দুই পক্ষই ইউক্রেন বিষয়ক আলোচনার বিষয়ে একমত হয়েছে। তিনি জানান, পুতিন-ট্রাম্প শীর্ষ বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে আলাপ হয়েছে, তবে আগামী সপ্তাহে তা হওয়ার সম্ভাবনা কম।

ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষকে ওই আলোচনায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে আঙ্কারায় সাক্ষাৎকালে ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, “ইউক্রেনকে বাইরে রেখে রাশিয়ার সঙ্গে কিভাবে যুদ্ধ শেষ হবে? এ নিয়ে কোনো আলোচনাই আমরা মেনে নেব না।” তিনি আরও বলেন, পুতিনের “শর্তহীন” দাবি তিনি কখনোই মেনে নেবেন না।

বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ সতর্ক বিবৃতি দেয়। রুবিও বলেন, “এটি দীর্ঘ ও কঠিন পথের প্রথম ধাপ,” এবং “ইউক্রেন সংঘাতের মীমাংসা সবার জন্য— ইউক্রেন, ইউরোপ, রাশিয়া— গ্রহণযোগ্য হওয়া চাই।”

ওয়াল্টজ বলেন, “এটি হতে হবে স্থায়ী সমাপ্তি, সাময়িক বিরতি নয়।” তিনি আরও যোগ করেন, “বাস্তবতার প্রেক্ষিতে এখানে অঞ্চল, নিরাপত্তা নিশ্চয়তা—এসব বিষয় নিয়েও কথা বলতে হবে।”

রাশিয়ান ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের প্রধান কিরিল দমিত্রিয়েভ জানান, আলোচনা শুরু হয়েছে, দুপক্ষই একে অপরকে শুনছে। তবে আপসের বিষয়ে এখনই কিছু বলা কঠিন।

পুতিন এখনও রিয়াদের আলোচনার বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেননি। তবে ট্রাম্পের সঙ্গে গত সপ্তাহের ফোনালাপে তিনি বলেছেন, রাশিয়া “সংঘাতের কারণগুলো মিটিয়ে ফেলতে” চায়। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Logo

প্রধান কার্যালয়: ৬০৯০ ডাউসন বুলেভার্ড, নরক্রস, জর্জিয়া, যুক্তরাষ্ট্র।

ই-মেইল: banglaoutlook@gmail.com

অনুসরণ করুন