দিল্লি ও বিহারে ৪.০ মাত্রার ভূমিকম্প, আতঙ্কে মানুষ

সোমবার সকাল ৫:৩৬ মিনিটে ভারতের রাজধানী দিল্লি ও সংলগ্ন ন্যাশনাল ক্যাপিটাল রিজিয়ন (NCR)-এ ৪.০ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল দিল্লির ধৌলা কুয়ান এলাকার দুর্গাবাঈ দেশমুখ কলেজ অব স্পেশাল এডুকেশনের কাছে ছিল এবং এটি মাত্র ৫ কিমি গভীরে সংঘটিত হয়। দিল্লি ছাড়াও উত্তর ভারতের বেশ কিছু এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়েছে। খবর েএনডিটিভির।
ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কে মানুষ
ভূমিকম্পের ফলে দিল্লি, নোইডা, গাজিয়াবাদসহ আশপাশের শহরগুলোর বহুতল ভবনের বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে রাস্তায় নেমে আসেন। নোইডার এক বাসিন্দা বলেন, "ভোর ৫:৩৫-এ হঠাৎ পুরো বিল্ডিং কাঁপতে শুরু করে। আমরা দ্রুত বাসা থেকে বেরিয়ে যাই। আগে কখনো এত শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভব করিনি। ভাগ্য ভালো, আমরা সবাই নিরাপদ আছি।"
প্রধানমন্ত্রীর বার্তা ও প্রশাসনের প্রস্তুতি
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবাইকে শান্ত থাকার এবং নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “দিল্লি ও আশপাশের এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়েছে। সবাইকে শান্ত থাকার অনুরোধ করছি এবং সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। আফটারশকের সম্ভাবনা রয়েছে, তাই সুরক্ষা ব্যবস্থা মেনে চলুন। প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।”
দিল্লি পুলিশও এক্স (সাবেক টুইটার)-এ পোস্ট দিয়ে নাগরিকদের ১১২ জরুরি হেল্পলাইনে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে।
বিহারেও ভূমিকম্প
দিল্লির পর সকাল ৮:২২ মিনিটে বিহারেও ৪.০ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এই ভূমিকম্পের গভীরতা ছিল ১০ কিমি। এখনও পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
পরবর্তী সতর্কতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পের আফটারশক হতে পারে, তাই সতর্ক থাকতে হবে। ভূমিকম্পের সময় এবং পরে কীভাবে নিরাপদ থাকা যায়, সে বিষয়ে দিল্লি পুলিশ ও প্রশাসন নাগরিকদের সচেতন করছে।
নিরাপত্তার জন্য কিছু নির্দেশনা:
খোলা জায়গায় অবস্থান করুন।
বিল্ডিংয়ের দেয়াল, জানালা বা ভারী আসবাবপত্র থেকে দূরে থাকুন।
কোনো সংকেত না পাওয়া পর্যন্ত লিফট ব্যবহার করবেন না।
জরুরি প্রয়োজনে ১১২ নম্বরে কল করুন।
উত্তর ভারতে ভূমিকম্পের ঝুঁকি
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিল্লি ও আশপাশের অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা। ভারতীয় ভূতাত্ত্বিক গবেষণা অনুসারে, এই অঞ্চলটি উচ্চ ঝুঁকির জোন হিসেবে চিহ্নিত। দিল্লির ভূমিকম্পের ইতিহাস বলছে, মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প প্রায়ই অনুভূত হয়, তবে শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঝুঁকিও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় ভূমিকম্পের আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রশাসন ভূমিকম্পের সময় নাগরিকদের দ্রুত সরে যাওয়ার ব্যবস্থা রাখার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করছে।