ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেত্রীকে ধর্ষণ ও মরদেহ ৩০০ ফিটে ফেলে রাখার হুমকি এনসিপির ২ নেতার!

বাঁ থেকে উপরে সজীব সরদার (ঘড়ির কাটার দিকে), রাফি আহমেদ, মোহন হোসেন রিজন ও মাঈনুল ইসলাম (ফেসবুক প্রোফাইলের স্ক্রিনশট)। ইনসেটে (মাঝে) জান্নাতুল নওরীন উর্মি।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল নওরীন উর্মিকে ধর্ষণের পর হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই নেতার বিরুদ্ধে । আজ শুক্রবার (৪ এপ্রিল) ওই নেত্রীর ফেসবুকের ইনবক্সে ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দিয়ে একাধিক মেসেজ পাঠানো হয়। পাশাপাশি তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালও করা হয়েছে।
এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে উর্মি লেখেন, ‘আমি এনসিপির কিছু নেতার দুর্নীতির সমালোচনা করে পোস্ট করেছি বলে, আমাকে গালি ও রেইপ থ্রেট দিছে এনসিপির ২ নেতা। “সজীব সরদার” আমাকে “বে★★” বলেছেন ও পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এনসিপি নেতা৷ তিনি প্রবি প্রথমআলো বন্ধু সভার দপ্তর সম্পাদক। ইনভায়রনমেন্ট ও ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের ছাত্র। আরেক এনসিপি নেতা “মোহন হোসেন রিজন রিজন” আমাকে “চিচিং ফা★ করবে, ফা★★ বিচ” বলেছেন। তার বায়োতে লেখা “দেশ ও জনগনের স্বার্থে কাজ করাই আমাদের অঙ্গীকার, জাতীয় নাগরিক পার্টি (NCP), ইনকিলাব জিন্দাবাদ। ”
তিনি আরও লেখেন, ‘এই হল NCP আপনাদের দেশের জন্য কাজ করা ও নতুন বন্দোবস্ত!! প্রোফাইল লক করে মানুষ কে গালি দিচ্ছেন বাহ। এই আপনারা দেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবেন। আপনাদের হাতে নাকি দেশ ও এদেশের নারী শিশু, স্বাধীন মত প্রকাশ সেইফ। এই তার নমুনা!!’
তিনি লেখেন, ‘আপনারা পাওয়ারে গেলে আমাদের মত নওরিনকে আবারও লীগের মত কোপাবেন হয়ত এবার হয়ত কাপড় ও নিয়ে নিবেন। কারণ সরি টু সে অন্যকোন দল তাদের নিয়ে লিখলে এসব ভাষা বলার সাহস আগে করেনি করত না, যা আপনারা ৬ মাস রাজনীতি করে করেছেন।
আমি ভয় পাই না, আর আমি ভদ্রলোক হিমালয়ের মতন আবার আগ্নেয়গিরি হতেও সময় লাগে না, আইসক্রিম সেলার না যে সবার মন মত খুশি রেখে কথা বলব। যা সত্যি তাই বলব, আরও বেশি বলব।’
এরপর আরেক স্ট্যাটাসে জান্নাতুল নওরীন উর্মি লেখেন, ‘আমি আমার আগের ফেইসবুক পোস্ট ডিলিট করি যেন তাই হুমকি দিচ্ছে। আমি NCP সেন্ট্রাল ও বরিশাল মহানগরের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহবায়কদের দুর্নীতি নিয়ে লেখায়, তাদের অনুসারীরা আমাকে গালাগালি করা হয়। সে বিষয়ে প্রতিবাদ করলে ইনবক্সে আমাকে এসব ভাষায় প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। তারা আমায় ভুইঁয়া একাডেমিতে ক্লাস করতে যাওয়ার সময় তুলে নিবে। তারা আমার বাসায় মব নিয়ে আসবে। পোস্ট আমি ডিলিট করব না, আমি ডরাই না। ’
তিনি লেখেন, ‘আমাকে লীগ নির্যাতন করছে, এখন তারা ৩ দিন ব্যাপী করবে! হে খোদা!! এজন্য এতবছর লড়াই করছি!?? আমার ডেড বডি ৩০০ ফিটে ফেলে যাবে। আমি বাকি ভাষা বলতে পারব না, বাধ্য হয়ে স্কীনশর্ট শেয়ার করলাম। আমার ও আমার পরিবারের নিরাপত্তায় কোন বিঘ্ন ঘটলে এ দায় উক্ত সংগঠন ব্যক্তি ও তাদের অনুসারীদের।’
জান্নাতুল নওরীন উর্মি বলেন, ‘আমার কাছে সুযোগ ছিল পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ছেলেটির নামে জিডি/ মামলা বা তার প্রতি রিভেঞ্জ নেওয়ার। আমি সবাইকে বলেছি ও ছোট থাক। আমি প্রতিবাদ করছি এতেই ভুল বুঝবে, কোন হার্মফুল কিছু না হোক। এখন তারা আমাকে তারা এসব হুমকি দিচ্ছে। ’
তিনি বলেন, ‘যাহ পোস্ট সরাবো না, যা পারস কর। তোদের লীগই আমারে প্রানে মারতে পারিনি! হয়াত মউত আল্লাহর হাতে। আমরা মৃত্যু ভয় করিনা, ভয় করি আল্লাহ কে। এই হলো নতুন বন্দোবস্ত NCP!’
উর্মির দাবি, ‘সজীব সরদার’ পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এনসিপি নেতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনভায়রনমেন্ট ও ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের ছাত্র। যেটি তার ফেসবুক প্রোফাইলেও উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে ফেসবুক প্রোফাইলের বায়োর বরাত দিয়ে মোহন হোসেন রিজনকেও এনসিপির সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেছেন উর্মি।
এসব ঘটনার স্ক্রিনশট সংযুক্ত করে ফেসবুকে আবার একটি পোস্ট দেন ছাত্রদলের এই নেত্রী।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সজীব সরদার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘উর্মি আপু এনসিপির হাসনাত ও সারজিস ভাইয়ের সমালোচনা করে অনেক আজেবাজে কথা লিখেছে। এটি দেখে আমার ভীষণ খারাপ লেগেছে ও রাগ হয়েছে। পরে আমি সেই পোস্ট নিয়ে কমেন্ট করেছি। পরে বুঝতে পারছি এটা করা ঠিক হয়নি, পরে আমি সেই কমেন্ট ডিলিট করেছি।’
তবে এনসিপির সঙ্গে তার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই বলে জানান সজীব। এছাড়া মোহন হোসেন রিজনের ফেসবুকের ইনবক্সে মেসেজ পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে, উর্মির অভিযোগ, তার পোস্টের পরই ইনবক্সে নানা রকম হুমকি আসতে থাকে। পাশাপাশি এনসিপি নেতাদের সমালোচনা করে আগের পোস্টটি সরিয়ে নিতে বলা হয়। এরমধ্যে ‘রাফি আহমেদ’ নামের একটি প্রোফাইল থেকে ইনবক্সে ‘রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে টানা তিন দিন ধর্ষণের পর নগ্ন ডেডবডি ৩০০ ফিট রাস্তায় ফেলে রাখার’ হুমকি দেওয়া হয়।
এই হুমকির স্ক্রিনশট সংযুক্ত করে ফেসবুকে আবারও একটি পোস্ট দেন ছাত্রদলের এই নেত্রী। যদিও ফেসবুকে সার্চ করে রাফি আহমেদের আইডিটি খুঁজে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ছাত্রদল নেত্রী উর্মি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘নারীরা সব সময়ই অনলাইনে-অফলাইনে বুলিংয়ের শিকার হচ্ছে। কিন্তু এ ব্যাপারটি অত্যন্ত জঘন্য ও সীমা ছাড়িয়েছে। ছাত্রলীগ আমার ওপর যে নিমর্মতা চালিয়েছে, সেটিকে জাস্টিফাই করে এবং সেই ঘটনাকে আরও নোংরা করে উপস্থাপন করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমার বক্তব্যের সঙ্গে তারা একমত না-ই হতে পারে। তাদের ভিন্নমত থাকতে পারে। কিন্তু রাজনৈতিক সমালোচনা রাজনীতি দিয়েই মোকাবিলা করা উচিত। রাজনৈতিক চর্চায় আমরা এ ধরনের আচরণ কামনা করি না। এতে মানুষ রাজনীতিবিদদের ওপর আস্থা হারাবে, সম্মান হারাবে; মানুষ রাজনীতি বিমুখ হয়ে যাবে।’