ন্যায় বিচার, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান ও তরুণদের ব্যাপক সম্পৃক্ততা থাকবে ছাত্রদের দলে

নতুন দল গঠনের ক্ষেত্রে ইমরান খান, এরদোয়ান ও কেজরিওয়ালের দলের অভিজ্ঞতা আমলে নিচ্ছেন ছাত্ররা
নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সক্রিয় থাকা একদল তরুণ নেতৃত্ব। তাঁদের দাবি, বাংলাদেশের বিদ্যমান বাম বা ডানপন্থী ধারা থেকে সরে এসে ‘মধ্যপন্থী’ অবস্থানকে সামনে রেখে একটি রাজনৈতিক শক্তি তৈরির লক্ষ্যে তাঁরা এগোতে চান। এই দলের মূলমন্ত্র হিসেবে সাম্য, ন্যায়বিচার ও সুশাসনের কথা বলা হচ্ছে। পাশাপাশি ইসলামফোবিয়া বা উগ্র ধর্মবাদ—কোনো কিছুকেই প্রশ্রয় না দিয়ে বহুত্ববাদী সমাজের বাস্তবতা মেনে চলার পরিকল্পনা রেখেছেন দলটির উদ্যোক্তারা।
জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা মিলে দল গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের বক্তব্য, স্বাধীনতার পর দেশে বহু রাজনৈতিক দল গড়ে উঠলেও টেকসইভাবে বড় মাত্রায় সাফল্য পায়নি বেশির ভাগ দল। মূলধারার রাজনীতিতে কার্যকর অবস্থান নেওয়া দল বলতে আজ পরস্পরবিরোধী দুই শিবির—আওয়ামী লীগ ও বিএনপি—প্রকৃত ক্ষমতার কেন্দ্রে রয়েছে। সে প্রেক্ষাপটে তরুণ নেতৃত্বের নতুন এই দল একটি বিকল্প প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চায়। সংগঠকদের ধারণা, দেশের অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতা তাদের জন্য সুযোগের জানালা খুলে দিয়েছে।
দলটির অন্যতম উদ্যোক্তা আলী আহসান জুনায়েদ জানালেন, তাঁরা তুরস্কের রিচেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের একে পার্টি, পাকিস্তানের ইমরান খানের তেহরিক-ই-ইনসাফ এবং ভারতের অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টির সাফল্যের মডেল ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। ওই দলগুলো কীভাবে স্বল্পসময়ে জনগণের আস্থা অর্জন করে ক্ষমতায় যেতে পেরেছে, তাদের সাংগঠনিক কাঠামো ও প্রচারকৌশল কেমন ছিল—এসব বিষয় বিশ্লেষণের মাধ্যমে তাঁরা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন। ইনসাফ, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান এবং তরুণদের ব্যাপক সম্পৃক্ততার মতো বিষয়গুলোর ওপর বিশেষ জোর দিতে চান উদ্যোক্তারা।
দলের নেতৃত্ব কেবলমাত্র তরুণরাই নয়, বরং অভিজ্ঞ, নানা শ্রেণি-পেশার মানুষকেও অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আবু বাকের মুজমদার বলছেন, উপদেষ্টা পরিষদসহ বিভিন্ন স্তরে জ্যেষ্ঠ নাগরিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের যুক্ত করা হবে। তবে সামনের কাতারে অবস্থান নেবেন মূলত সাম্প্রতিক আন্দোলনে সক্রিয় তরুণ নেতৃত্ব। গুঞ্জন আছে, দলের শীর্ষপদে উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম আসতে পারেন।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ডিসেম্বরের মধ্যেই হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। সেক্ষেত্রে দলটিকে খুব দ্রুত নির্বাচনী মাঠে নামার প্রস্তুতি নিতে হবে। নতুন এই দল সারাদেশেই প্রার্থী দিতে আগ্রহী বলে জানালেও, বাস্তবে সেই সাংগঠনিক দক্ষতা বা সক্ষমতা কতটা রয়েছে—সেটি অবশ্য এখনো স্পষ্ট নয়। তবুও উদ্যোক্তাদের আশা, তাঁরা বৃহত্তর এক বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হয়ে উঠবেন এবং অভ্যুত্থানের পক্ষের অন্যান্য দল ও সংগঠনের সমর্থনও লাভ করবেন। আপাতত অন্য কোনো জোটের সঙ্গে ঐক্য নয়, বরং স্বাধীনভাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য।