ড. ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে বক্তব্য দেওয়া ব্যক্তি মির্জা ফখরুলের ছেলে নন

রিউমর স্ক্যানার
প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৪:১২ পিএম
-67f1022259c48.jpg)
সম্প্রতি ‘প্রফেসর ইউনূসকে ২ মাসের সময় দিলেন মির্জা ফখরুলের বড় ছেলে মির্জা জাহিদ ফখরুল’ শীর্ষক ক্যাপশনে একটি ভিডিও ইন্টারনেটে বিভিন্ন প্লাটফর্মে প্রচার করা হয়েছে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওতে বক্তব্য প্রদানকারী ব্যক্তি এই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সন্তান নন বরং, জায়েদ খান নামক ব্যক্তিকে মির্জা ফখরুলের বড় ছেলে মির্জা জাহিদ ফখরুল দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে প্রচারিত ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে মাইক্রোফোনে ‘প্রতিদিন খবর’ লিখিত লোগো দেখতে পাওয়া যায়।
উক্ত তথ্যের সূত্রে ‘প্রতিদিন খবর’ নামক অনলাইন নিউজ পোর্টালের ফেসবুক পেজে গত ১৬ মার্চ ‘ড. ইউনূসকে—উদ্দেশ্য করে—-যা বললেন—–জায়েদ খান’ ক্যাপশনে প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওর সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটির মিল রয়েছে।
উক্ত ভিডিওটির ক্যাপশনে ব্যক্তির নাম ‘জায়েদ খান বলা হলেও ভিডিওতে বক্তব্য প্রদানকারী ব্যক্তি নিজের নাম ‘জাহিদ’ বলে উল্লেখ করেছে। তবে, ভিডিওর ক্যাপশনে বা বক্তব্যে কোথাও উক্ত ব্যক্তি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সন্তান বিষয়ক তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে অধিকতর অনুসন্ধানে গণমাধ্যম Dhaka Post এর ওয়েবসাইটে ২০২৪ সালের ২৬ জানুয়ারি ‘মির্জা ফখরুলের জন্মদিন, কারাগারে স্ত্রী-মেয়ে ও বোন’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।
উক্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ব্যক্তিগত জীবনে মির্জা ফখরুল বিবাহিত এবং দুই মেয়ের বাবা। বড় মেয়ে মির্জা শামারুহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা শেষে সেখানেই শিক্ষকতা করেছেন। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় পোস্ট ডক্টরাল ফেলো হিসেবে কর্মরত আছেন। ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা শেষে একটি স্কুলে শিক্ষকতা করছেন। তার স্ত্রী রাহাত আরা বেগম কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারী। বর্তমানে বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
পরবর্তীতে, bdnews24 এর ওয়েবসাইটে ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর ‘অস্ট্রেলিয়ার পথে মির্জা ফখরুল’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মির্জা ফখরুল ও রাহাত আরা দম্পতির দুই মেয়ে। বড় মেয়ে শামারুহ মির্জা ২০০৬ সাল থেকে অস্ট্রেলিয়াতে থাকেন তার স্বামী ও সন্তান নিয়ে। আর ছোট মেয়ে সাফারুহ মির্জা ঢাকায় একটি ইংরেজি স্কুলে শিক্ষকতা করেন।
অর্থাৎ, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দুইজন কন্যা সন্তান রয়েছে। তার কোনো পুত্র সন্তান নেই।
সুতরাং, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে ভিন্ন ব্যক্তির বক্তব্যকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেলের বক্তব্য দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।