Logo
Logo
×

সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক মোকাবিলায় ইউবিইউআইয়ের কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৮:৪৫ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক মোকাবিলায় ইউবিইউআইয়ের কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রস্তাবিত ‘রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ বা পাল্টা শুল্ক মোকাবিলায় বাংলাদেশের জন্য একটি সাহসী ও দূরদর্শী কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করেছে ইউএস বাংলাদেশ ইউনিটি ইনিশিয়েটিভ (ইউবিইউআই)। এই কর্মপরিকল্পনা পারস্পরিক ফায়দা, অর্থনৈতিক কূটনীতি এবং দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বাংলাদেশের জন্য ভবিষ্যতমুখী পথনির্দেশনা প্রদান করে। 

বাংলাদেশ সরকারের কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা : সহনশীলতা ও অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া (Bangladesh Government Strategic Playbook: Responding to U.S. Reciprocal Tariffs With a Resilience and Partnership Agenda) শীর্ষক এই প্রস্তাবনায় বিদ্যমান বাণিজ্যি উদ্বেগকে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশের সম্পর্কের একটি নতুন সুযোগে পরিণত করার উদ্দেশ্যে ছয়টি অতি-প্রভাব সৃষ্টিকারী উদ্যোগের কথাও বলেছে ইউবিইউআই। 

এই ব্যাপারে সংগঠনটির পরিচালক মোহাম্মদ মিয়া বলেন, ‘এটি প্রতিশোধের কাল নয়, পুনঃআবিষ্কারের কাল। আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে আমাদের সহনশীলতায় বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। বাংলাদেশ রেসিপ্রোকাল বা পারষ্পরিক ভ্যলু তৈরি, আমেরিকান শিল্পকে সমর্থন এবং আগামী দশকের মধ্যে অংশীদারিত্বমূলক উন্নতির জন্য ভিত গঠনে প্রস্তুত।’ 

ইউবিইউআই প্রস্তাবিত কর্মপরিকল্পনার প্রধান ছয়টি উদ্যোগ হচ্ছে:  

১. যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য আমদানি বৃদ্ধি 

বাংলাদেশ সরকারি চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিন, গম ও তুলা আমদানিকে অগ্রাধিকার দিবে। এই আমদানিগুলো আমেরিকান কৃষকেদর—বিশেষ করে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোর—সহায়তা করবে এবং বাংলাদেশকে বাণিজ্যিক পারস্পরিকতা ও সদিচ্ছার বার্তা দেবে।

২. যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজি সরবরাহের দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি নিশ্চিতকরণ

বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এবং সরবরাহে বৈচিত্র্য আনতে Argent LNG-এর মতো যুক্তরাষ্ট্রীয় কোম্পানির সঙ্গে বহু বিলিয়ন ডলারের এলএনজি চুক্তি করা যেতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি রপ্তানি বৃদ্ধি করবে এবং বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের কৌশলগত সম্পর্ক মজবুত হবে।

৩. অবকাঠামো খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি

বাংলাদেশ জ্বালানি, বন্দর ও পরিবহন অবকাঠামোয় যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের আংশিক মালিকানা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্থিতিশীলতায় যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ স্বার্থ গড়ে তোলা হবে। এর সঙ্গে যুক্ত থাকবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্দেশনা অনুযায়ী শাসনব্যবস্থা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধির সংস্কারের প্রতিশ্রুতি।

৪. যৌথ সার্বভৌম সম্পদ তহবিল (Sovereign Wealth Fund) প্রতিষ্ঠা

যুক্তরাষ্ট্রের মিউচ্যুয়াল ফান্ড ও প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশীদারিত্বে ১২ থেকে ১৫ বিলিয়ন মূলধনে, একটি যৌথভাবে পরিচালিত সার্বভৌম তহবিল গঠন করা হবে। এটি জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো, তরুণদের উন্নয়ন ও নগরায়নের জন্য ব্যয় হবে। এই তহবিল বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি সম্ভাবনার সঙ্গে ওয়াল স্ট্রিটের সম্পৃক্ততা জোরদার করবে এবং পর্যাপ্ত তদারকি ও কৌশলগত সঙ্গতি বজায় রাখবে।

৫. স্বাস্থ্যখাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাইভেট ইক্যুইটি বিনিয়োগে সুযোগ

টিপিজির এভারকেয়ার বিনিয়োগের ভিত্তিতে, বাংলাদেশ স্বাস্থ্যখাতে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার আধুনিকীকরণ ও যৌথ উদ্যোগ কাঠামোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাইভেট ইক্যুইটি বিনিয়োগের পথ আরও উন্মুক্ত করবে। এতে ডিজিটাল স্বাস্থ্য, ডায়াগনস্টিক ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিবে। এটি উচ্চ-মূলোর সেরা খাতে বিনিয়োগকে আরও প্রশ্বস্থ করতে পারে।

৬. শুল্কমুক্তের জন্য অটোমোটিভ বিনিয়োগের প্রস্তাব

যুক্তরাষ্ট্রের অটোমোবাইল কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশ কৌশলগত বিনিয়োগের প্রস্তাব দিবে; স্থানীয়ভাবে গাড়ি সংযোজন (অ্যাসেম্বলি) ও যন্ত্রাংশ উৎপাদন দিয়ে শুরু করা যেতে পারে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রয়োজন হলেও, এই উদ্যোগের প্রতীকী ও বাস্তবিক মূল্য রয়েছে, বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান তৈরির আখ্যানের জন্য।

এই উদ্যোগগুলো একত্রে কৌশলগত পারস্পরিক নির্ভরতার একটি রূপরেখা তৈরি করে, যেখানে মার্কিনি ব্যবসা নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ পায়, এবং বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক দৃঢ়তা অর্জন করে।

প্রস্তাবিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ৩৬ মাসের টাইমলাইন প্রদান করা হয়েছে, যেখানে নির্দিষ্ট কূটনৈতিক ও নীতিগত বিষয়গুলো আলোচিত হয়েছে। এটা বাস্তবায়নের জন্য ইউবিইউআই প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের অধীনে একটি একটি ‘Tariff Response War Room’ গঠনের প্রস্তাব করছে, যার আরেকটি স্থায়ী সমন্বয়কেন্দ্র থাকবে ওয়াশিংটন, ডিসিতে।

এই ব্যাপারে সংগঠনটির পরিচালক মোহাম্মদ মিয়া আরও বলেন, ‘আমরা কেবল পলিসির চাইতেও বড় কিছুর ইশারা দিচ্ছি। আমরা একটি আধুনিক অর্থনৈতিক জোট গঠনের কথা বলছি যেখানে থাকবে আস্থা, স্বচ্ছতা এবং সাহসী চিন্তা।’

ইউবিইউআই উভয় দেশের নীতিনির্ধারক, বাণিজ্য আলোচক, ব্যবসায়িক নেতা ও উন্নয়ন সহযোগীদের এই কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে একটি নতুন যুগের বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা গঠনের আহ্বান জানাচ্ছে।

Logo

প্রধান কার্যালয়: ৬০৯০ ডাউসন বুলেভার্ড, নরক্রস, জর্জিয়া, যুক্তরাষ্ট্র।

ই-মেইল: banglaoutlook@gmail.com

অনুসরণ করুন