নির্বাচনের সময়সূচি, সংস্কারে ঐকমত্য এবং আ.লীগের বিচারের দাবিতে বিশিষ্ট নাগরিকদের বিবৃতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৫, ০৬:২৯ পিএম

নির্বাচনের সময়সূচি, সংস্কারে ঐকমত্য এবং আওয়ামী লীগের বিচারসহ বিভিন্ন দাবিতে বিবৃতি দিয়েছেন ৩১ জন বিশিষ্ট নাগরিক। আজ বৃহস্পতিবার এসব দাবিতে বিবৃতি দেন তারা।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশিরা শেখ হাসিনার পতন ও পলায়নের পর প্রথমবারের মতো ঈদ উদ্যাপন করতে যাচ্ছেন। শেখ হাসিনা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সকল অঙ্গ প্রত্যঙ্গ পদ্ধতিগতভাবে ধ্বংস করে এক সাগর রক্তে দেশকে ডুবিয়ে পালিয়ে গিয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টা যথাযথভাবেই ২০২৪ সালের আগস্টের অবস্থাকে যুদ্ধাবস্থার সাথে তুলনা করেছেন। তখন থেকেই বাংলাদেশের জনগণ কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশের স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে কাজ করে যাচ্ছে। যেমন, স্মরণকালের মধ্যে এবারই প্রথম রমজান যেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে ছিল। স্বৈরশাসন মুক্ত বাংলাদেশের জন্য এই ঈদ বিশেষ আনন্দের।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তদপুরি, আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দলসমূহ এবং দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনীকে একে অপরের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বজ্ঞানহীন ও উসকানিমূলক অপতথ্য ও ভুয়া তথ্য সমাজ ও রাজনৈতিক পরিসরে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে এবং গণতন্ত্রকামী শক্তিসমূহের মধ্যে বিভাজনের বীজ রোপণ করতে পারে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই ধরনের বিভাজন কেবল গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রক্রিয়াকেই হুমকিতে ফেলবে না, বরঞ্চ পতিত স্বৈরাচারের রাজনীতির পুনরুত্থানও ঘটাতে সহায়তা করবে। অতএব, আমরা সচেতন নাগরিকরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দলসমূহকে জাতীয় ঐক্য ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাই:
- জাতীয় নির্বাচনের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সূচির ঘোষণা;
- নির্বাচনী ব্যবস্থার জন্য ও গণতন্ত্র সুসংহত করনের জন্যে প্রয়োজনীয় ন্যূনতম সংস্কার বিষয়ক ঐকমত্য ও বাস্তবায়ন;
- গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি সর্বসম্মত সংস্কার কর্মসূচি প্রণয়ন, যা নির্বাচনের পর বাস্তবায়ন করা হবে, যেন পতিত স্বৈরশাসকের দ্বারা ব্যবহৃত জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাসহ সকল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে জনগণের সেবায় পুনর্গঠিত করা যায়;
- কোনোভাবেই পতিত স্বৈরশাসকের শক্তির সঙ্গে আপস করবে না মর্মে সকল গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দলগুলো কর্তৃক প্রতিশ্রুতি প্রদান;
- পতিত স্বৈরশাসক এবং তার সহযোগী ও সংগঠনগুলোর, বিশেষত আওয়ামী লীগের বিচার।
আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য ও ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার যে কোনো ধরনের প্রচেষ্টার তীব্র জানাই।
বাংলাদেশের জনগণকে শান্তিপূর্ণ ও আনন্দময় ঈদ যাপনের কামনায়, ঈদ মোবারক।
বিবৃতিদাতারা হলেন:
1. শহিদুল আলম, আলোকচিত্রী ও লেখক
2. শামারুহ মির্জা, বিজ্ঞানী ও অ্যাক্টিভিস্ট
3. ফাহিম মাসরুর, যুগ্ম আহ্বায়ক, ভয়েস ফর রিফর্ম
4. ডা জাহেদ উর রহমান, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও লেখক
5. রুমি আহমদ খান, আহ্বায়ক, বাংলাদেশ রিসার্চ এনালাইসিস ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক
6. সুবাইল বিন আলন, প্রকৌশলী, অ্যাক্টিভিস্ট ও লেখক
7. রুশাদ ফরিদী, শিক্ষক, অর্থনীতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
8. মো. রাশেদ, রাজনৈতিক কর্মী
9. মাহমুদুল খান আপেল, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার
10. সফিকুর রহমান, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী
11. ড. মো. খান সোবায়েল বিন রফিক, গবেষক, সাবেক মিলিটারি ও অ্যাক্টিভিস্ট
12. জ্যোতি রহমান, অর্থনীতিবিদ ও লেখক
13. মার্জিয়া মিথিলা, স্থপতি
14. ইমতিয়াজ মির্জা, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ও অ্যাক্টিভিস্ট
15. সাদিক মাহবুব ইসলাম, সাংবাদিক ও অ্যাক্টিভিস্ট
16. ওহিদুল ইসলাম, সদস্য, বিএএফ
17. স্থপতি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম ইমন, কান্ট্রি প্রতিনিধি, মানুষ মানুষের জন্য
18. আসিফ ইকবাল, পাবলিক পলিসি প্রফেশনাল
19. হাসান জামান, উদ্যোক্তা ও অ্যাক্টিভিস্ট
20. ডা. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, চিকিৎসক, ডিএমসিএইচ
21. কর্নেল ইমরান উল্লাহ সরকার, পিবিজিএম, পিবিজিএমএস (অবসরপ্রাপ্ত)
22. রন্টি চৌধুরী, বিএএফ, পলিসি ওয়াচ বাংলাদেশ
23. এহতেশামুল হক, আইনজীবী
24. মুশতাক আহমেদ, ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল ও চার্টার্ড সার্টিফায়েড অ্যাকাউন্ট্যান্ট
25. শেখ মোহাম্মদ জিলানী, অপারেশন ম্যানেজার, আমাজন
26. হুমায়ূন কবির, গবেষক ও অ্যাক্টিভিস্ট
27. সৈয়দ হাসিবুদ্দিন হোসাইন, রাজনৈতিক কর্মী, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন
28. সাইফ শাহ মোহাম্মদ, আইনজীবী
29. রুসাইয়াত নজরুল, স্থপতি ও গবেষক
30. মেজর (অব.) শাফায়াত আহমেদ, সাবেক মিলিটারি কর্মকর্তা, লেখক ও অ্যাক্টিভিস্ট
31. মাসুদ রানা, যুগ্ম-আহ্বায়ক, ভয়েস ফর রিফর্ম