‘ধর্ষণ’ শব্দের পরিবর্তে ‘নারী নিপীড়ন’ বলার অনুরোধে সমালোচনার মুখে দুঃখপ্রকাশ ডিএমপি কমিশনারের

‘ধর্ষণ’ শব্দের পরিবর্তে ‘নারী নির্যাতন’ বা ‘নারী নিপীড়ন’ শব্দ ব্যবহার করার অনুরোধ জানিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। বিতর্কের পর সোমবার (১৮ মার্চ) ডিএমপির এক বিবৃতিতে তিনি দুঃখপ্রকাশ করেছেন।
বিবৃতিতে সাজ্জাত আলী বলেন, “নারী ও শিশু নির্যাতন প্রসঙ্গে আলোচনার সময় ধর্ষণকে বৃহত্তর পরিসরে নির্যাতন হিসেবে উল্লেখ করেছিলাম। আমার বক্তব্যে কেউ কষ্ট পেলে আমি দুঃখিত।”
কি ঘটেছিল?
শনিবার (১৬ মার্চ) ঢাকার কারওয়ান বাজারে ‘হেল্প’ (হ্যারাসমেন্ট এলিমিনেশন লিটারেসি প্রোগ্রাম) নামে একটি মোবাইল অ্যাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএমপি কমিশনার ধর্ষণ শব্দ ব্যবহারে আপত্তি জানান।
তিনি বলেন, “আমি দু’টি শব্দ খুব অপছন্দ করি। অনুরোধ করব, এই শব্দগুলো ব্যবহার করবেন না। একটা ভুলে গেছি, কিন্তু অন্যটি বলছি— ধর্ষণ শব্দটি ব্যবহার করবেন না, প্লিজ। এটি আমাদের শুনতে খুব খারাপ লাগে। আপনারা ‘নারী নির্যাতন’ বলবেন, ‘নারী নিপীড়ন’ বলবেন।”
সাজ্জাত আলী আরও যুক্ত করেন, “আমাদের যে আইনটি আছে, সেটির নাম ‘নারী ও শিশু নির্যাতন আইন’। আইনেও এই শব্দ নেই, তাই যে শব্দগুলো শুনতে খারাপ লাগে, সেগুলো না বললেই ভালো হয়।”
তীব্র প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা
ডিএমপি কমিশনারের বক্তব্যের পর তাৎক্ষণিকভাবে নিন্দা জানায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়। এক বিবৃতিতে বলা হয়, “ধর্ষণ একটি জঘন্য অপরাধ, এটি আট বছরের শিশুর ক্ষেত্রেও হতে পারে, আবার ৮০ বছরের বৃদ্ধার ক্ষেত্রেও। এটি অবশ্যই তার প্রকৃত নামেই অভিহিত করতে হবে।”
এছাড়া, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ডিএমপি কমিশনারের বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছে। রোববার জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে এক মানববন্ধনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন,
“যে সংস্থার দায়িত্ব নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সেই সংস্থার একজন শীর্ষ কর্মকর্তা ধর্ষণ শব্দটি এড়িয়ে যাওয়ার অনুরোধ করছেন— এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ধর্ষকদের সুরক্ষা দেওয়ার পথ তৈরি করছেন, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা তার বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানাই।”
বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। নারী অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ধর্ষণের মতো অপরাধকে তার প্রকৃত নামে ডাকাই ন্যায়বিচারের প্রথম ধাপ।