আমিনবাজার গ্রিড উপকেন্দ্রে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত

ঢাকার উপকণ্ঠ আমিনবাজারে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (PGCB) একটি উপকেন্দ্রে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিটের টানা দুই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে উপকেন্দ্রে আগুন লাগার খবর পেয়ে মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পরে আশপাশের স্টেশন থেকে আরও ইউনিট এসে মোট ৯টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। সকাল সোয়া ৯টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে বলে নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম।
প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া না গেলেও ফায়ার সার্ভিস ও গ্রিড উপকেন্দ্রের কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, বৈদ্যুতিক ত্রুটি বা ট্রান্সফরমারের ওভারলোড থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। আমিনবাজার গ্রিড উপকেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মাধব চন্দ্র সাহা জানিয়েছেন, "আমাদের একটি ট্রান্সফরমারে আগুন লেগেছে, কিছুটা সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত আমরা বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু রাখার চেষ্টা করছি।"
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে বিকট শব্দ শোনা যায় এবং পুরো এলাকায় ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কিত মানুষজন উপকেন্দ্রের আশপাশ থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরে যান। যদিও আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে, তবে এতে আশপাশের বিদ্যুৎ সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আগুন নিয়ন্ত্রণের পরও আমিনবাজার, হেমায়েতপুর, সাভারসহ আশপাশের এলাকাগুলোর বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, সকাল থেকেই বিদ্যুৎ না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা। গ্রিড উপকেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত ট্রান্সফরমার ও যন্ত্রপাতি মেরামতের কাজ চলছে এবং বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধার করতে আরও কয়েক ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের প্রধান পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাইন উদ্দিন জানান, "আমরা দ্রুততার সঙ্গে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছি। যেহেতু এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ সঞ্চালনকেন্দ্র, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের কারণ খতিয়ে দেখার জন্য তদন্ত চলছে এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।