
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি ও সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, নির্বাচন ও সংস্কার প্রক্রিয়ার মধ্যে কোনো সাংঘর্ষিক বিষয় নেই। তিনি বলেন, "নির্বাচনের একটি টাইম-টেবিল তৈরি করার চেষ্টা চলছে, তবে এখন পর্যন্ত তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। ডিসেম্বর মাসে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আগেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা সরকারের পক্ষ থেকেও বারবার বলা হয়েছে। আমি মনে করি, খুব শিগগিরই নির্বাচন নিয়ে আরও সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত আসবে। ফলে ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রম নির্বাচনী প্রক্রিয়ার জন্য কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে না।"
সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সংসদ ভবনের এলডি হলে ঐকমত্য কমিশনের সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের প্রস্তুতি
আলী রীয়াজ আরও জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় কমিশন প্রস্তুত রয়েছে এবং এই সংলাপ আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক উভয়ভাবেই এগিয়ে নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, "আমরা শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতই নয়, সাধারণ নাগরিকদের মতামতও জানতে চাই। এজন্য শিগগিরই একটি ওয়েবসাইট চালু করা হবে, যেখানে জনগণ তাদের মতামত দিতে পারবেন। আমরা মনে করি, শুধু রাজনৈতিক দল নয়, প্রতিটি নাগরিকেরই অধিকার রয়েছে রাষ্ট্রীয় সংস্কার নিয়ে মতামত দেওয়ার।"
অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার সম্ভব
সংবিধান সংস্কারের জন্য অধ্যাদেশ জারি করা যায় কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আলী রীয়াজ বলেন, "বাংলাদেশের অতীত অভিজ্ঞতা বিবেচনায় রেখে আমরা সংবিধান সংশোধনের বিভিন্ন প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করেছি। রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে যেসব প্রস্তাব এসেছে, সেগুলোও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "অতীতে অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে, যা পরে জাতীয় সংসদে সংশোধনী হিসেবে গৃহীত হয়েছে। ফলে এটি সঠিক কি বেঠিক সে বিষয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, তবে বাংলাদেশে এর নজির রয়েছে।"
গণপরিষদ নিয়ে আলোচনা
গণপরিষদ নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, "গণপরিষদ গঠনের বিষয়টি অনেক রাজনৈতিক দল আগে থেকেই বলে আসছে। ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি সুস্পষ্টভাবে গণপরিষদ গঠনের পক্ষে মত দিয়েছে। শুধু ৫ আগস্টের পরবর্তী পরিস্থিতিতেই নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে যারা রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে কথা বলেন, তারা গণপরিষদের মাধ্যমে নতুন সংবিধান প্রণয়নের কথা বলে আসছেন।"
তিনি আরও বলেন, "বাংলাদেশে সংবিধান ও রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে বিভিন্ন মহলে যে আলোচনা চলছে, তারই অংশ হিসেবে গণপরিষদের প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে।"
আগামী পদক্ষেপ
সংবিধান সংস্কার ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে এবং খুব শিগগিরই পরবর্তী কার্যক্রম ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন আলী রীয়াজ।