Logo
Logo
×

সংবাদ

১০ বছরে গণপিটুনিতে ৭৯২ জন নিহত

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৫ মার্চ ২০২৫, ০৫:২৩ পিএম

১০ বছরে গণপিটুনিতে ৭৯২ জন নিহত

গত ১০ বছরে অন্তত ১ হাজার ৯টি গণপিটুনির ঘটনায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৭৯২ জন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৭৬৫ জন। আজ বুধবার হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে “গণপিটুনির” মাধ্যমে মানুষকে হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের মানুষ আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হয়ে নিজেরাই আইন হাতে তুলে নিচ্ছে।  ২০২৫ সালের ২ মাসে “গণপিটুনির” অন্তত ৩০ টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৯ জন এবং আহত হয়েছেন ২০ জন। 

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০২৪ সালের আগষ্ট থেকে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত গত ৭ মাসে “গণপিটুনির” অন্তত ১১৪ টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ১১৯ জন এবং আহত হয়েছেন ৭৪ জন। গত ১০ বছরের মধ্যে ২০২৪ সালের পরিসংখ্যান ছিল সবচেয়ে  ভীতিকর। গত বছরে “গণপিটুনির”অন্তত ২০১ টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৭৯ জন এবং আহত হয়েছেন ৮৮ জন। ২০১৫ সাল থেকে ২০২৪ সাল  পর্যন্ত গত ১০ বছরে “গণপিটুনির” অন্তত ১০০৯ টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৭৯২ জন এবং আহত হয়েছেন অন্তত  ৭৬৫ জন। তবে প্রকৃত সংখ্যা এর চাইতে আরো বেশি হবে।


বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ এবং হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) এর সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে গত ১০ বছরের চিত্র নিচে উল্লেখ করা হলো :

বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের বরাতে জানা যায়, গত ৩ মার্চ রাতে চট্টগ্রামের এওচিয়া ইউনিয়নে মাইকে ‘ডাকাত’ঘোষণা দিয়ে ২ জনকে পিটিয়ে হত্যা, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে মাদারীপুরে ডাকাতির ঘটনায় শরিয়তপুরে ৭জন ডাকাতকে গনপিটুনির ঘটনায় ৫জন নিহত, ২৭ ফেব্রুয়ারি উত্তরায় ছিনতাইকারী সন্দেহে ২জনকে পিটিয়ে পায়ে দড়ি বেঁধে উল্টোকরে ঝুলিয়ে রাখা, গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর গুলিস্তানে ছিনতাইকারী সন্দেহে গণপিটুনীতে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি নিহত, ২০ সেপ্টেম্বর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শামীম মোল্লা নামে সাবেক এক ছাত্রলীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যা, ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অভ্যন্তরে চোর সন্দেহে তোফাজ্জল নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা, ৭ সেপ্টেম্বর গনপিটুনিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল্লাহ আল মাসুদকে হত্যাসহ ডাকাত বা চোর সন্দেহে, ধর্মীয় অবমাননা, ছেলেধরা বা কল্লাকাটা অভিযোগে অসংখ্য হতাহতের ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বগুড়া, মাদারীপুর, টাঙ্গাইল, চট্ট্রগ্রাম, খুলনা, মিরসরাই, যাত্রাবাড়ী, টঙ্গী, রাজশাহী ও বরিশালে  এমন গণপিটুনির ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা বা এফআইআর হলেও সুষ্ঠু তদন্ত বা অপরাধীদেরকে শাস্তি নিশ্চিতের ঘটনা খুবই কম।  এসব ঘটনায় দোষীরা আইনের আওতায় না আসায় দীর্ঘদিন ধরে এক ধরণে বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে, ফলে দোষীরা অধরাই রয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, অপরাধী-নিরপরাধী নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের  আইনের আওতাও বিচার লাভ এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ রয়েছে। সংবিধানের ২৭, ৩১, ৩৩, ৩৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রের সকল নাগরিক আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী এবং আইনের দৃষ্টিতে অপরাধী প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না ও অপরাধের জন্য যতটুকু শাস্তি প্রাপ্য তার চেয়ে বেশি বা ভিন্ন কোনো শাস্তি দেয়া যাবে না। এছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৯ ধারা অনুযায়ী, অপরাধী ধরা পড়লে তাকে পুলিশের হাতে হস্তান্তর করতেই হবে। এর ব্যতিক্রম করলে দণ্ডবিধির ১৮৭, ৩১৯, ৩২৩, ৩৩৫ ও ৩০৪ ধারা অনুযায়ী যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন ধরনের শাস্তির বিধান রয়েছে। গণপিটুনিতে কোন ব্যক্তি নিহত হলে দণ্ডবিধির ৩৪ ধারা অনুযায়ী গণপিটুনিতে অংশ নেয়া সকল ব্যক্তি সমানভাবে দায়ী হবে। 

এছাড়া আন্তর্জাতিক আইনানুযায়ী গণপিটুনি মানবাধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন। মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণা-১৯৪৮, এর তিন নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- প্রত্যেকের জীবন, স্বাধীনতা ও ব্যক্তি নিরাপত্তার অধিকার আছে। অনুচ্ছেদ পাঁচ অনুযায়ী- কারো প্রতি নির্যাতন, অত্যাচার, নিষ্ঠুরতা, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ করা যাবে না। আর নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তি- ১৯৬৬ এর অনুচ্ছেদ ছয় একই বিষয় নিয়ে আলোকপাত করেছে। অনুচ্ছেদ সাতে নির্যাতনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

তাই বাংলাদেশের সংবিধান, দেশের আইন ও আন্তর্জাতিক আইনানুযায়ী গণপিটুনি একটি দন্ডনীয় অপরাধ এবং মানবাধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন। হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) দেশের সকল নাগরিককে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে এবং আইন নিজের হাতে তুলে না নিতে আহবান জানাচ্ছে। এইচআরএসএস গনপিটুনির মতো ঘটনা এড়াতে পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলাবাহিনীকে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে আহবান জানাচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দেশের সকল নাগরিকের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে ও গণপিটুনির সাথে সম্পৃক্ত সকল অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে এবং এলাকাভিত্তিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে নানাবিধ পরিকল্পনা গ্রহণে সরকারের প্রতি আহবান জানাচ্ছে।  সেইসাথে এইচআরএসএস দেশের সচেতন সমাজ ও গনমাধ্যমকে গণপিটুনির বিষয়ে দেশের সকল নাগরিককে সচেতন করে গড়ে তুলতে যথাযথ ভূমিকা পালনের আহবান জানাচ্ছে।

Logo

প্রধান কার্যালয়: ৬০৯০ ডাউসন বুলেভার্ড, নরক্রস, জর্জিয়া, যুক্তরাষ্ট্র।

ই-মেইল: banglaoutlook@gmail.com

অনুসরণ করুন