আবরার হত্যা মামলার ৭ আসামিকে নিয়ে যা বললেন ছোট ভাই ফাইয়াজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৬:৫০ পিএম

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শেরে বাংলা হলে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করেন ছাত্রলীগের একদল নেতা-কর্মী। ওই ঘটনায় ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত। আলোচিত এই হত্যা মামলা নিয়ে নিহত আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আবেগঘন একটি পোস্ট দিয়েছেন।
পোস্টটি বাংলা আউটলুকের পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো,
আসামীপক্ষের আইনজীবী সংক্রান্ত বিষয়টি আব্বুর থেকে জানতে পারি গত ২৪ তারিখে। তবে আদালতের শুনানি শেষ হয়ে যাওয়ায় এ বিষয়ে কথা বলে কোনো লাভ ছিলো না। আবার যে দুই দল আবরার ফাহাদের বিষয়ে সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ ছিলো, তারাই এই ঘটনা নিয়ে নিজেদের মধ্যে রাজনীতি করুক এমনটাও চাইনা বলে এড়িয়ে যেতে চেয়েছিলাম।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে দেখলাম, এই সুযোগে যেই সাত আসামীর পক্ষে উক্ত আইনজীবী লড়ছেন, তাদেরকেই রীতিমতো নির্দোষ বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমাকেই দেখলাম বেশ কয়েকজন মেসেজ দিয়ে বুঝাচ্ছেন যে, সেই সাতজনকে অতিরিক্ত শাস্তি দেওয়া হয়েছে! তো এখানে কয়েকটা পয়েন্ট নিয়ে কথা বলা উচিত:
১. প্রথমেই যে কথাটা আসে যে, আওয়ামী লীগ সরকার নাকি জনতুষ্টির জন্য রায় দিয়েছে। অথচ ঘটনা পুরোই উলটো। শেষ মুহুর্তে গিয়ে বেশ কয়েকজনের সাজা কমানোর জন্য স্বয়ং তৎকালীন আইনমন্ত্রী চেষ্টা করেছেন। আসামীর পরিবার ও ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে আইনমন্ত্রীকে ম্যানেজ করা গেলেও, বিচারকের দৃঢ়তার কারণে সুবিধা করতে পারেননি।
২. যেই সাতজনের পক্ষে উনি: (যাদের কথা টেনে ডিফেন্ড করা হচ্ছে তাদের ক্ষেত্রে কিছু অভিযোগ যুক্ত)
(i) মেহেদী হাসান রাসেল: তৎকালীন বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। যে সরাসরি লাশগুম আর ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে।
(ii) মেহেদী হাসান রবিন: আবরার ফাহাদকে টার্গেটের মূল হোতা। যে ৩রা অক্টোবরের মিটিংয়ে নির্দেশ দেয় আবরার ফাহাদকে গেস্টরুমে আনতে। ভাইয়ার রুমমেট মিজান, এই রবিনকেই জানায় যে ভাইয়াকে শিবির মনে হয় তার।
(iii) অমিত সাহা: যে সেদিন রাতে উপস্থিত ছিলো না। কিন্তু ৫ ঘণ্টার মারার পরে ২০১১ থেকে ২০০৫ এ নিয়ে যাওয়ার পরে অবস্থা দেখে মেসেঞ্জারে নির্দেশ দিয়েছিলো যে, ওরে আরো দুই ঘণ্টা মারা যাবে। (উনার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড আছে)
(iv) মাহমুদ সেতু: খুব সম্ভবত এর কথা দিয়েই বলা হচ্ছে যে, জানালা দিয়ে উঁকি দেওয়ায় ফাসির রায় হয়েছে। কথা ভুল না, তবে অসম্পূর্ণ। উঁকি দেওয়ার পরে যারা মারতেছিলো, তারা তাকে জিজ্ঞেস করেছিলো যে, ভাই কিছু তো স্বীকার করেনা। তখন সে বলেছিলো, তাইলে আরো মারতে থাকো।
(v) শামীম বিল্লাহ
(vi) নাজমুস সাদাত
(vii) হোসেন মোহাম্মদ ত্বোহা
৩. দেখেন, আমরা কোনোভাবেই চাই না যে কোনো নির্দোষ শাস্তি পাক। আমরা চাই ন্যায়বিচার। তবে একটা বিষয় কী, এই হত্যাকাণ্ডের দায় কী শুধুই ২৫জনের উপরে ছিলো? অবশ্যই না। যেই মাত্রার অপরাধে এদের শাস্তি হয়েছেন বলে আপনারা মনে করছেন, তা সত্যি হলে শতাধিক আসামী হতো।
৪. কিন্তু এই যে, একজন আইনজীবী ও তার রাজনৈতিক সমর্থকদের ব্যবহার করে যে পুরো বিচার প্রক্রিয়া নিয়েই জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি করা হলো, এর দায় কারা নেবে?
একজন আইনজীবী তার পছন্দ মতো যেকোনো মামলা নিতেই পারে। এখানে আমার কোনোই আপত্তি নেই। কিন্তু সে যাদের মামলা নিয়েছে তারা নির্দোষ এটা কীসের আলাপ ভাই! উনি আদালতে অনেক চেষ্টা করেও যে ক্ষতিটা করতে পারেননি, সেটা আপনাদের ‘উনি যাদের মামলা নিয়েছেন তারা অতটাও দোষী না’ প্রমাণের চেষ্টার মাধ্যমে হচ্ছে।