শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের আন্দোলন প্রত্যাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৩:১৮ পিএম
স্নাতকোত্তর শিক্ষানবিশ চিকিৎসকেরা বর্ধিত ভাতার প্রজ্ঞাপন মেনে নিয়ে কর্মবিরতি ও আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। আজ সোমবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডা. মিলন হলে আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়।
আন্দোলন প্রত্যাহার প্রসঙ্গে আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস মুভমেন্ট ফর জাস্টিস সোসাইটির সভাপতি ডা. জাবির হোসেন বলেন, ‘আমরা দীর্ঘ দুই বছর ধরে বারবার রাজপথে সংগ্রাম করেছি। আমরা যখনই ভাতা বৃদ্ধির যৌক্তিক দাবি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে গিয়েছি, তখন সবাই যৌক্তিক দাবি বলে শুধু আশ্বাস দিয়েছে। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা এই যুক্তির দাবি নিয়ে রাস্তায় না নামি, ততক্ষণ পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। এবারও আমরা গত চার মাস যাবৎ সকল জায়গায় গিয়েছি। সকলের সঙ্গে কথা বলার পরই যখন আমরা সামগ্রিকভাবে এই সমস্যাটি সমাধান করতে পারছিলাম না। তখন আমরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হই।’
ডা. জাবির হোসেন আরও বলেন, ‘বিগত একদিন আমরা শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করি। যার ফলে আমাদের ডাকা হয় এবং ভাতা বৃদ্ধির বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন আসে। সে প্রজ্ঞাপনে জানুয়ারি থেকে ৩০ হাজার টাকা এবং পরবর্তী জুলাই থেকে ৩৫ হাজার টাকা ভাতা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। এ অবস্থায় আমরা সার্বিক বিবেচনা করে সরকারের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিচ্ছি এবং কাজে ফিরে যাচ্ছি।’
এর আগে গতকাল রবিবার বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আপাতত ৩০ হাজার টাকা ভাতার সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছিল আন্দোলনরত পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকদের প্রতিনিধি দল। কিন্তু আন্দোলনরত অন্যদের সঙ্গে আলোচনা শেষে সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকেরা।
প্রসঙ্গত, ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে এর আগে গত ২২ ডিসেম্বরও শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন চিকিৎসকেরা। তখন ৫ হাজার টাকা ভাতা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিল সরকার।
এর আগে ভাতা বাড়াতে ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলেন ট্রেইনি চিকিৎসকেরা। দাবি না মানলে দেশের প্রায় ১৩ হাজার পোস্ট গ্র্যাজুয়েট প্রাইভেট ট্রেইনি চিকিৎসক একযোগে কর্মবিরতিতে যাবেন বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে প্রজ্ঞাপন না হওয়ায় ২২ ডিসেম্বর ট্রেইনি চিকিৎসকেরা আন্দোলন শুরু করেন। তাঁদের একটি অংশ শাহবাগ অবরোধ করেন। পরে সরকার ভাতা ২৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার করার ঘোষণা দেয়। এমনকি পরবর্তী সময়ে চিকিৎসকদের অব্যাহত আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে জুলাই মাস থেকে ৩৫ হাজার টাকা ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।