৪২তম (বিশেষ) বিসিএস স্বাস্থ্য নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত ও মৌখিক উভয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও নিয়োগবঞ্চিত ১ হাজার ৯১৯ জন চিকিৎসক তাদের নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন। আজ রবিবার ৪২তম (বিশেষ) বিসিএস স্বাস্থ্যে অপেক্ষমান চিকিৎসকদের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান তারা। ‘৪২তম (বিশেষ) বিসিএস স্বাস্থ্য (লিখিত ও মৌখিক) উভয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও ক্যাডার পদে নিয়োগ বঞ্চিত ১৯১৯ জন চিকিৎসককের ন্যায্য নিয়োগ’ শীর্ষক এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে।
সংবাদ সম্মেলনে নিয়োগ বঞ্চিত চিকিৎসকেরা বলেন, ২০২১ সালে ৪২তম বিসিএসের ফলাফলে পর্যাপ্ত পদ না থাকায় ১ হাজার ৯১৯ জন চিকিৎসক দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ বঞ্চিত হয়ে আছেন। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও তারা বৈষম্যের শিকার। স্বাস্থ্য অধিদফতর নীতিগতভাবে দ্রুত ২ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা চাই ৪২তম বিসিএসের অপেক্ষমান চিকিৎসকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হোক।
তারা আরও বলেন, দেশে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে চরম চিকিৎসা সংকট রয়েছে। সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী তাদের মৌলিক অধিকার হিসেবে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় রোগীরা যথাযত চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন না।
সাধারণ বিসিএসের নিয়োগ প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ উল্লেখ করে চিকিৎসকরা বলেন, বর্তমানে ৪৪, ৪৫ ও ৪৬তম বিসিএস প্রক্রিয়াধীন। ৪২তম বিসিএসের পরে আর কোনো চিকিৎসক নিয়োগ হয়নি। তাই দীর্ঘ প্রক্রিয়া এড়িয়ে দ্রুত নিয়োগ দিয়ে চিকিৎসা সংকট নিরসনের দাবি জানান তারা।
এ সময় নিয়োগবঞ্চিত চিকিৎসকদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও এবি পার্টির আহ্বায়ক মেজর (অব.) অধ্যাপক ডা. আব্দুল ওহাব মিনার বলেন, ‘নিয়োগ না পাওয়া এসব চিকিৎসকদের যোগ্যতার অভাব নেই; তারা বিসিএসে টিকেছে। তাহলে কেন তাদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না? এখানে তো এমন কেউ নেই যে বিসিএস ফেইল করেও বলছে তাদের নিয়োগ দিতে।’
তিনি বলেন, ‘যাদের চিকিৎসা কাজে ব্যস্ত থাকার কথা ছিল, তারা বাধ্য হয়ে আজ সংবাদ সম্মেলনে এসেছেন। বিসিএস পরীক্ষায় এসব চিকিৎসকরা পাস করেও আজ রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন। তাদের দাবি যৌক্তিক। এটা রাষ্ট্রের, মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা। স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে সুস্পষ্ট বার্তা দিতে চাই, আপনারা এসব ডাক্তারদের দ্রুত নিয়োগ দিন।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক বিবেচনায় কিছু মানহীন মেডিকেল কলেজ তৈরি হয়েছে, সেগুলো বন্ধ করতে হবে। ওখানে কোনো রোগী নেই, ভালো মানুষকে রোগী সাজিয়ে স্টুডেন্টদের পরীক্ষা নেওয়া হয়। এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে হবে।’
এবি পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে বলছি, ৪২তম বিসিএসে যে ভাই-বোনরা টিকে গেছেন, ৪৩, ৪৪, ৪৫, ৪৭ ও ৪৯তম বিসিএসের নাটক না করে ইমিডিয়েটলি (তাৎক্ষণিকভাবে) দেশের স্বার্থে একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে তাদের নিয়োগের ব্যবস্থা করুন।’
তিনি বলেন, ‘আমি এক জেলাতে গিয়েছিলাম। সেখানে ১৯ জন ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও আছেন মাত্র ৩ জন এবং তারা ঠিকমতো ডাক্তারিও করেন না। এর দায় কিন্তু আপনাদের (সরকার)। কারণ ওই গ্রামে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য এসব ডাক্তাররা রেডি হয়ে আছেন। শুধুমাত্র একটি ভুল পলিসির কারণে তাদের আপনি চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করছেন।’